দিনের শুরু এবং শেষ আল্লাহর স্মরণে করা একজন মুমিনের জীবনের সুন্দর একটি অভ্যাস। রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে সকাল ও সন্ধ্যায় পাঠ করার জন্য বিভিন্ন দোয়া, কুরআনের সূরা ও যিকির বর্ণিত হয়েছে। এগুলোকে সাধারণভাবে সকাল-সন্ধ্যার আযকার (أذكار الصباح والمساء) বলা হয়।

এই পাতায় গুরুত্বপূর্ণ সকাল-সন্ধ্যার দোয়া ও যিকির আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ, কতবার পড়বেন এবং হাদিসের সূত্রসহ সহজভাবে সাজানো হয়েছে।

সংক্ষেপে: সবগুলো একদিনেই মুখস্থ করতে না পারলে চিন্তার কিছু নেই। অল্প অল্প করে শিখুন এবং নিয়মিত আমল করার চেষ্টা করুন। বাংলা উচ্চারণ শেখার সহায়ক হতে পারে, তবে সম্ভব হলে আরবি দেখে সঠিক উচ্চারণ শেখার চেষ্টা করুন।

এই পাতায় যা রয়েছে


সকাল-সন্ধ্যার যিকির কখন পড়বেন?

হাদিসে বিভিন্ন যিকিরের ক্ষেত্রে “যখন সকাল হয়” এবং “যখন সন্ধ্যা হয়”—এ ধরনের শব্দ এসেছে। তাই কোনো একটি খুব সংকীর্ণ সময়কে একমাত্র বৈধ সময় হিসেবে নির্ধারণ না করে, সকাল ও সন্ধ্যার নিজ নিজ সময়ে এগুলো পড়ার অভ্যাস করা উত্তম।

বিশেষ করে ফজরের পর সকালের আযকার এবং দিনের শেষভাগে সন্ধ্যার আযকার পড়ে নেওয়া একটি সহজ অভ্যাস হতে পারে। কোনো কারণে নির্দিষ্ট সময়ে পড়তে না পারলে একেবারে ছেড়ে না দিয়ে সুযোগ হলে আল্লাহর যিকির করা যেতে পারে।


১. সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস — ৩ বার

রাসূলুল্লাহ ﷺ সকাল ও সন্ধ্যায় সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক এবং সূরা নাস তিনবার পড়তে বলেছেন।

সূরা ইখলাস

قُلْ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ۝ ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ ۝ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۝ وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌ

উচ্চারণ: কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুস সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুন লাহু কুফুওয়ান আহাদ।

অর্থ: বলুন, তিনি আল্লাহ—এক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।

সূরা ফালাক

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلْفَلَقِ ۝ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ۝ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ۝ وَمِن شَرِّ ٱلنَّفَّاثَاتِ فِى ٱلْعُقَدِ ۝ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ

উচ্চারণ: কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক। মিন শাররি মা খালাক। ওয়া মিন শাররি গাসিকিন ইযা ওয়াকাব। ওয়া মিন শাররিন নাফফাসাতি ফিল উকাদ। ওয়া মিন শাররি হাসিদিন ইযা হাসাদ।

অর্থ: বলুন, আমি আশ্রয় চাই প্রভাতের রবের কাছে—তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে, অন্ধকার রাতের অনিষ্ট থেকে যখন তা গভীর হয়, গিরায় ফুঁ দেয় এমনদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।

সূরা নাস

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلنَّاسِ ۝ مَلِكِ ٱلنَّاسِ ۝ إِلَٰهِ ٱلنَّاسِ ۝ مِن شَرِّ ٱلْوَسْوَاسِ ٱلْخَنَّاسِ ۝ ٱلَّذِى يُوَسْوِسُ فِى صُدُورِ ٱلنَّاسِ ۝ مِنَ ٱلْجِنَّةِ وَٱلنَّاسِ

উচ্চারণ: কুল আউযু বিরাব্বিন নাস। মালিকিন নাস। ইলাহিন নাস। মিন শাররিল ওয়াসওয়াসিল খান্নাস। আল্লাযি ইউওয়াসউইসু ফি সুদূরিন নাস। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান নাস।

অর্থ: বলুন, আমি আশ্রয় চাই মানুষের রবের কাছে, মানুষের অধিপতির কাছে, মানুষের ইলাহর কাছে—আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে, যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়—জিন ও মানুষের মধ্য থেকে।

কতবার: তিনটি সূরাই ৩ বার করে সকাল ও সন্ধ্যায়।

সূত্র: সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৫০৮২।

↑ উপরে ফিরে যান


২. সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার — ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি, লা ইলাহা ইল্লা আনতা। খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা। ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু। আউযু বিকা মিন শাররি মা সানাতু। আবূউ লাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়া, ওয়া আবূউ লাকা বিযাম্বি। ফাগফির লি, ফা ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী আপনার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আমার ওপর আপনার নিয়ামত স্বীকার করছি এবং নিজের গুনাহও স্বীকার করছি। অতএব আমাকে ক্ষমা করুন; আপনি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।

ফজিলত: রাসূলুল্লাহ ﷺ এটিকে শ্রেষ্ঠ ইস্তিগফার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দৃঢ় বিশ্বাসসহ দিনে এটি পড়ে সেই দিনের সন্ধ্যার আগে মৃত্যু হলে এবং রাতে পড়ে সকালের আগে মৃত্যু হলে জান্নাতের সুসংবাদ বর্ণিত হয়েছে।

সূত্র: সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৬৩০৬।

↑ উপরে ফিরে যান


৩. অনিষ্ট থেকে সুরক্ষার দোয়া — ৩ বার

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাযি লা ইয়াদুররু মা’আসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়া লা ফিস সামা-ই, ওয়া হুওয়াস সামীউল আলীম।

অর্থ: আল্লাহর নামে, যাঁর নামের সঙ্গে পৃথিবী ও আকাশের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

কতবার: সকাল ও সন্ধ্যায় ৩ বার।

সূত্র: সুনান আবু দাউদ ও জামে আত-তিরমিযিতে এ দোয়ার বর্ণনা এসেছে।

↑ উপরে ফিরে যান


৪. আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মদ ﷺ-কে নবী হিসেবে সন্তুষ্ট থাকার যিকির

رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا

উচ্চারণ: রাদীতু বিল্লাহি রব্বা, ওয়া বিল ইসলামী দীনা, ওয়া বিমুহাম্মাদিন নাবিয়্যা।

অর্থ: আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ ﷺ-কে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।

কতবার: সকাল ও সন্ধ্যায় ৩ বার পড়ার বর্ণনা রয়েছে।

সূত্র: জামে আত-তিরমিযি ৩৩৮৯; এছাড়া অন্যান্য হাদিসগ্রন্থেও সকাল-সন্ধ্যায় এ যিকিরের বর্ণনা এসেছে।

↑ উপরে ফিরে যান


৫. ক্ষমা, নিরাপত্তা ও সুস্থতার দোয়া

ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ সকাল ও সন্ধ্যায় নিচের দোয়াগুলো ছাড়তেন না:

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي وَمَالِي، اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي وَآمِنْ رَوْعَاتِي، وَاحْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ وَمِنْ خَلْفِي وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ شِمَالِي وَمِنْ فَوْقِي، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ। আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফি দীনি ওয়া দুনইয়ায়া ওয়া আহলি ওয়া মালি। আল্লাহুম্মাসতুর আওরাতি, ওয়া আমিন রাওআতি। ওয়াহফাযনি মিন বাইনি ইয়াদাইয়া, ওয়া মিন খালফি, ওয়া আন ইয়ামিনি, ওয়া আন শিমালি, ওয়া মিন ফাওকি, ওয়া আউযু বিকা আন উগতালা মিন তাহতি।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্তা চাই। আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও সম্পদের ব্যাপারে ক্ষমা ও নিরাপত্তা চাই। হে আল্লাহ! আমার দোষত্রুটি গোপন রাখুন, আমার ভয়কে নিরাপত্তায় পরিণত করুন এবং সামনে, পেছনে, ডানে, বামে ও ওপর থেকে আমাকে রক্ষা করুন। আর নিচ থেকে আকস্মিকভাবে আক্রান্ত হওয়া থেকে আপনার আশ্রয় চাই।

সূত্র: সুনান ইবন মাজাহ, হাদিস ৩৮৭১।

↑ উপরে ফিরে যান


৬. সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি — ১০০ বার

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি।

অর্থ: আল্লাহ সকল অপূর্ণতা থেকে পবিত্র এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই।

কতবার: সকাল ও সন্ধ্যায় ১০০ বার।

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ সকাল ও সন্ধ্যায় এটি একশবার পাঠ করার বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করেছেন।

সূত্র: সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬৯২।

↑ উপরে ফিরে যান


৭. সন্ধ্যায় সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয়ের দোয়া

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

উচ্চারণ: আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।

অর্থ: আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।

এক ব্যক্তি রাতে বিচ্ছুর কামড়ে কষ্ট পাওয়ার কথা বললে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে এ দোয়াটি সন্ধ্যায় পড়ার কথা বলেন।

সূত্র: সহিহ মুসলিম; রিয়াদুস সালিহীন, হাদিস ১৪৫২।

↑ উপরে ফিরে যান


সকাল-সন্ধ্যার যিকির কীভাবে অভ্যাসে পরিণত করবেন?

অনেকগুলো দোয়া একসঙ্গে দেখে প্রথমে কঠিন মনে হতে পারে। কিন্তু সবগুলো একদিনে মুখস্থ করার প্রয়োজন নেই। প্রথমে তিন কুল এবং ছোট দোয়াগুলো দিয়ে শুরু করতে পারেন। এরপর ধীরে ধীরে সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার এবং অন্য আযকার যোগ করুন।

মোবাইলে এই পাতাটি বুকমার্ক করে রাখতে পারেন। ফজরের পর কয়েক মিনিট এবং সন্ধ্যায় কয়েক মিনিট সময় নির্ধারণ করলে নিয়মিত পড়া সহজ হয়। কিছুদিন আরবি দেখে পড়তে পড়তে অনেক দোয়া স্বাভাবিকভাবেই মুখস্থ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

গুরুত্বপূর্ণ: শুধু উচ্চারণ করাই উদ্দেশ্য নয়। দোয়ার অর্থ বোঝার চেষ্টা করুন। যখন আমরা বুঝে বলি—“আল্লাহই আমার রব”, “আমি তাঁর কাছে ক্ষমা চাই”, “আমি তাঁর কাছে আশ্রয় চাই”—তখন যিকির আমাদের ঈমান, তাওয়াক্কুল ও আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জীবন্ত করতে সাহায্য করে।

সকাল-সন্ধ্যার দোয়া সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন

সকাল-সন্ধ্যার আযকার কি প্রতিদিন পড়তে হবে?

এগুলো গুরুত্বপূর্ণ মাসনুন যিকির ও দোয়া। নিয়মিত পড়ার চেষ্টা করা উত্তম। কোনো দিন বাদ পড়ে গেলে হতাশ না হয়ে আবার আমল শুরু করুন।

সবগুলো দোয়া কি একসঙ্গে পড়তেই হবে?

না। সবগুলো এখনো মুখস্থ না থাকলে যেগুলো জানেন সেগুলো দিয়ে শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে অন্যগুলো শিখুন। তবে হাদিসে যেসব যিকিরের নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ রয়েছে, সেই আমলটি করলে বর্ণিত সংখ্যাটি অনুসরণ করার চেষ্টা করা উচিত।

বাংলা উচ্চারণ দেখে দোয়া পড়া যাবে?

আরবি পড়তে না পারলে বাংলা উচ্চারণ শেখার সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বাংলা অক্ষরে আরবি উচ্চারণ পুরোপুরি প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তাই সুযোগ হলে আরবি দেখে বা নির্ভরযোগ্য কারও কাছ থেকে সঠিক উচ্চারণ শেখা উত্তম।

সকাল-সন্ধ্যার যিকিরের উপকারিতা কী?

বিভিন্ন সহিহ ও গ্রহণযোগ্য হাদিসে এসব যিকিরের জন্য আল্লাহর স্মরণ, ক্ষমা প্রার্থনা, সুরক্ষা এবং বিশেষ প্রতিদানের কথা এসেছে। তবে প্রত্যেক দোয়ার জন্য হাদিসে যে ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, সেটিই নির্দিষ্টভাবে বলা উচিত; সব দোয়ার জন্য একই ধরনের ফল নিশ্চিত করে বলা ঠিক নয়।

শেষ কথা

সকাল-সন্ধ্যার দোয়া ও যিকির শুধু কিছু আরবি বাক্য পড়ার তালিকা নয়। এগুলো দিনের শুরু ও শেষে নিজেকে মনে করিয়ে দেওয়ার একটি উপায়—আমাদের রব আল্লাহ, আমাদের নিরাপত্তা তাঁর হাতে, আমাদের ভুলের ক্ষমা তাঁর কাছেই চাই এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে।

প্রথমে অল্প দিয়ে শুরু করুন। অর্থ বুঝুন। নিয়মিত পড়ুন। এরপর ধীরে ধীরে রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত আরও আযকার শিখুন। আল্লাহ আমাদের তাঁর যিকিরকারী ও কৃতজ্ঞ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।পাঠ করেন, তাদের জীবন হয় শান্তিময় ও নিরাপদ।

ফেসবুকে যারা মন্তব্য করেছেনঃ
(Visited 262 times, 1 visits today)