মানুষ ভুল করে, গুনাহ করে; কিন্তু আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। গুনাহ করে নিরাশ না হয়ে আল্লাহর দরবারে ফিরে যাওয়াই একজন মুমিনের কাজ। তাওবা ও ইস্তিগফার হচ্ছে সেই পথ, যার মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয়, অন্তর পরিশুদ্ধ হয়, আর আল্লাহর নৈকট্য অর্জিত হয়।
কুরআনে তাওবার গুরুত্ব
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্রতা অর্জন করে তাদেরও।”
(সূরা বাকারা: ২২২)
আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার অন্যতম পথ হচ্ছে খাঁটি অন্তর দিয়ে তাওবা করা এবং নিয়মিত ইস্তিগফার করা।
তাওবার তিনটি শর্ত
- গুনাহ করা বন্ধ করা
- গুনাহের জন্য অনুশোচনা করা
- ভবিষ্যতে গুনাহ না করার প্রতিজ্ঞা করা
যদি অন্যের হক নষ্ট করা হয়, তবে তা ফেরত দেওয়াও তাওবার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
ইস্তিগফার পড়ার ফজিলত
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا ﴿١٠﴾
উচ্চারণ: ফাকুলতু স্তাগফিরু রাব্বাকুম, ইন্নাহু কানা গাফ্ফারা।
অর্থ: “তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল।”
(সূরা নূহ: ১০)
নিয়মিত ইস্তিগফার করার ফলে শুধু গুনাহ মাফ হয় না, বরং রিজিক বৃদ্ধি হয়, দুশ্চিন্তা দূর হয় এবং শান্তি লাভ হয়।
🤲 শ্রেষ্ঠ ইস্তিগফার (সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার)
اَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّىْ لآ إِلهَ إلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِىْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّمَا صَنَعْتُ، أبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَىَّ وَأَبُوْءُ بِذَنْبِىْ فَاغْفِرْلِىْ، فَإِنَّهُ لاَيَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আনতা রব্বী লা ইলা-হা ইল্লা আনতা খালাক্বতানী, ওয়া আনা ‘আবদুকা ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাত্বা‘তু, আ‘ঊযুবিকা মিন শার্রি মা ছানা‘তু। আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়া ওয়া আবূউ বিযাম্বী ফাগফিরলী ফাইন্নাহূ লা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আনতা।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি আমার প্রভু, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আমি আপনার দাস। আমি আমার সাধ্যমত আপনার নিকটে দেওয়া অঙ্গীকারে ও প্রতিশ্রুতিতে দৃঢ় আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট হ’তে আপনার নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আমার উপরে আপনার দেওয়া অনুগ্রহকে স্বীকার করছি এবং আমি আমার গোনাহের স্বীকৃতি দিচ্ছি। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা কর। কেননা আপনি ব্যতীত পাপসমূহ ক্ষমা করার কেউ নেই’।
”
(বুখারি)
যে ব্যক্তি এই দোয়া সকালবেলা পাঠ করে এবং সেইদিনে মারা যায়, সে জান্নাতে যাবে ইনশাআল্লাহ।
🌙 রাতে বিশেষভাবে তাওবা করা
রসুল (সা.) বলেন, “আল্লাহ প্রতি রাতে নিকটবর্তী আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন – ‘কেউ কি আছো, যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দিবো? কেউ কি ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব?’” (বুখারি, মুসলিম)
🛡️ নিয়মিত ইস্তিগফারের উপকারিতা
- অন্তর নরম হয় ও চোখে অশ্রু আসে
- গুনাহ ও বিপদ থেকে নিরাপত্তা পাওয়া যায়
- রিজিকে বরকত আসে
- অনাবৃষ্টি দূর হয় (সূরা নূহ: ১০-১২)
তাওবা ও ইস্তিগফার শুধু একটি আমল নয়, এটি একজন মুমিনের জীবনব্যবস্থা। দুনিয়ার কোনো গুনাহই আল্লাহর রহমতের চেয়ে বড় নয়। এখনই আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং খাঁটি অন্তরে ক্ষমা প্রার্থনা করা – এটাই সফলতার সোপান।