সকাল ও সন্ধ্যা – দিনের এই দুই সময়ে আল্লাহর যিকির ও দোয়াগুলো পাঠ করা আমাদের জন্য রক্ষা কবচ স্বরূপ। নবী করিম (সা.) নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট কিছু দোয়া পাঠ করতেন। এই দোয়াগুলো আমাদের রুহানিয়াত, নিরাপত্তা ও বরকতের উৎস।

🌅 সকাল-সন্ধ্যার দোয়ার ফজিলত

  • 🛡️ শয়তান ও জ্বিনের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা
  • 🤲 আল্লাহর কৃপা ও রহমত লাভ
  • 🧘 মন ও আত্মার প্রশান্তি
  • 📈 আমলনামায় নেকি বৃদ্ধি

গুরুত্বপূর্ণ সকাল-সন্ধ্যার দোয়া (উচ্চারণ ও অর্থসহ)

১. আয়াতুল কুরসি (সূরা আল-বাকারা: ২৫৫)

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الْحَیُّ الْقَیُّوْمُ   لَا تَاْخُذُهٗ سِنَةٌ وَّلَا نَوْمٌؕ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِؕ مَنْ ذَا الَّذِیْ یَشْفَعُ عِنْدَهٗۤ اِلَّا بِاِذْنِهٖؕ یَعْلَمُ مَا بَیْنَ اَیْدِیْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۚ وَلَا یُحِیْطُوْنَ بِشَیْءٍ مِّنْ عِلْمِهٖۤ اِلَّا بِمَا شَآءَۚ وَسِعَ كُرْسِیُّهُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ ۚ وَلَا یَئُوْدُهٗ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِیُّ الْعَظِیْمُ
উচ্চারণ: আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম। লা তা’খুজুহু সিনাতুওঁ ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিসসামা-ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদি। মান জাল্লাজি ইয়াশফা‘উ ‘ইনদাহু ইল্লা বিইজনিহি। ইয়া‘লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম। ওয়ালা ইউহিতুনা বিশাইইম মিন ‘ইলমিহি ইল্লা বিমা শা-আ। ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস সামা-ওয়াতি ওয়াল আরদা। ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা। ওয়াহুয়াল ‘আলিয়্যুল ‘আজিম।
অর্থ: “পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

আল্লাহ্, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সবকিছু তাঁরই। কে এমন আছে যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে, তা তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, তবে যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর কুরসি (সিংহাসন) আকাশ ও পৃথিবী পরিবেষ্টিত করে আছে। আর এগুলোর সংরক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বমহান।”
(সূরা বাকারা: ২৫৫)

২. তাওবা ও রিজিকের জন্য দোয়া

رَبِّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي
উচ্চারণ: রাব্বিগফিরলি ওয়ারহামনি ওয়াহদিনি ওয়ারজুকনি।
অর্থ: “হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করুন, দয়া করুন, হেদায়েত দিন এবং রিজিক দিন।”
(আবু দাউদ)

৩. আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রক্ষা পাওয়ার দোয়া

اللّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।”
(আবু দাউদ)

৪. প্রতিরক্ষার শক্তিশালী দোয়া

بِسْمِ اللّٰهِ الَّذِيْ لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهٖ شَيْءٌ فِي الْاَرْضِ وَلَا فِي السَّمَآءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাযি লা ইয়াদুররু মা’আসমিহি শাইয়ুন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামা-ই, ওয়াহুয়াস সামিউ’ল আলিম।
অর্থ: “আল্লাহর নামে, যাঁর নামের সাথে আসমান ও যমীনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না; এবং তিনিই সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী।”
(তিরমিজি)

এই দোয়াটি সকালে ও সন্ধ্যায় তিনবার পাঠ করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় এই দোয়া তিনবার পাঠ করবে, কোনো কিছু তার ক্ষতি করতে পারবে না। এটি বিভিন্ন বিপদাপদ, বালা-মুসিবত এবং অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য একটি অত্যন্ত কার্যকরী দোয়া।

৫. সর্বোত্তম ইস্তিগফার (সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার)

اَللّٰهُمَّ اَنْتَ رَبِّيْ لَا اِلٰهَ اِلَّا اَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَ اَنَا عَبْدُكَ وَ اَنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَ وَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ اَبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَ اَبُوْءُ بِذَنْبِيْ فَاغْفِرْ لِيْ فَاِنَّهٗ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ اِلَّا اَنْتَ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আনতা রব্বী, লা ইলা-হা ইল্লা আনতা খালাক্কতানী, ওয়া আনা ‘আবদুকা ওয়া আনা ‘আলা আহদিকা ওয়া ওয়া’দিকা মাসতাত্বা’তু, আ’উযুবিকা মিন শাররি মা সানা’তু। আবূউ লাকা বিনি’মাতিকা ‘আলাইয়্যা ওয়া আবূউ বিজাম্বী, ফাগফিরলী ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ্জুনূবা ইল্লা আনতা।
অর্থ: “হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ এবং আমি তোমার বান্দা। আমি আমার সাধ্যমতো তোমার প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের ওপর প্রতিষ্ঠিত আছি। আমি যা কিছু করেছি, তার মন্দ পরিণতি থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি। আমার প্রতি তোমার দেওয়া নিয়ামত স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহও স্বীকার করছি। অতএব, তুমি আমাকে ক্ষমা করো। কারণ, তুমি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।”
(বুখারি)

সাইয়্যিদুল ইস্তিগফারের ফজিলত

সাইয়্যিদুল ইস্তিগফারের অনেক বড় ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে দিনে এই দোয়াটি পাঠ করবে এবং সেদিন সন্ধ্যা হওয়ার আগে তার মৃত্যু হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে রাতে এই দোয়াটি পাঠ করবে এবং সকাল হওয়ার আগে তার মৃত্যু হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (বুখারী)

এই দোয়াটি প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় পাঠ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু গুনাহ মাফের জন্যই নয়, বরং আল্লাহ তায়ালার প্রতি বান্দার আনুগত্য ও তাঁর কাছে আত্মসমর্পণেরও একটি প্রমাণ।

দোয়া পাঠের সময়সূচি
  • সকাল: ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত
  • সন্ধ্যা: আসরের পর সূর্যাস্ত থেকে মাগরিব পর্যন্ত

এই দোয়াগুলো কণ্ঠস্থ করে কিংবা মোবাইলে সংরক্ষণ করে রাখলে প্রতিদিন নিয়মিত পাঠ করা সহজ হয়। যারা নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যার যিকির পাঠ করেন, তাদের জীবন হয় শান্তিময় ও নিরাপদ।

ফেসবুকে যারা মন্তব্য করেছেনঃ
(Visited 71 times, 1 visits today)