পৃথিবীর এই চাকচিক্যময় জীবন কি আসলেও স্থায়ী? আমরা প্রতিদিন যে সুখের পেছনে ছুটছি, তা কি আদৌ আমাদের তৃপ্তি দিতে পারছে? ইসলামের দৃষ্টিতে, এই দুনিয়া আমাদের জন্য কেবল একটি পরীক্ষাকেন্দ্র। আমাদের প্রকৃত জীবন শুরু হবে জান্নাতে, যেখানে কোনো দুঃখ, জরা বা মৃত্যু নেই।

জান্নাত: নিখুঁত ও শাশ্বত এক আবাস

জান্নাতের জীবন হবে আমাদের কল্পনার চেয়েও সুন্দর। সেখানে আল্লাহ তাআলা আমাদের দান করবেন:

  • নিখুঁত স্বাস্থ্য ও চিরযৌবন: কোনো অসুস্থতা বা বার্ধক্য সেখানে স্পর্শ করবে না।
  • সীমাহীন মানসিক শান্তি: ভয়, দুশ্চিন্তা বা হতাশা জান্নাতবাসীদের মনে থাকবে না।
  • অফুরন্ত নেয়ামত: যা চাইবেন, মুহূর্তেই তা হাতের কাছে চলে আসবে।

আল্লাহ তাআলা সূরা ফুরকানে ওয়াদা করেছেন:

“সেখানে (জান্নাতে) চিরকাল বসবাসরত অবস্থায় তাদের জন্য তা-ই থাকবে তারা যার ইচ্ছে করবে। এটা একটা ওয়াদা যা পূরণ করা আপনার প্রতিপালকের দায়িত্ব।” (সূরা ফুরকান, আয়াত: ১৬)

আমরাই হবো জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম জাতি

আমরা আখেরি নবীর উম্মত। আমরা দুনিয়াতে এসেছি সবার শেষে, কিন্তু ইনশাআল্লাহ, বিচারকার্য শেষে জান্নাতে প্রবেশ করব সবার আগে। আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মত হিসেবে এটি আমাদের জন্য এক বিশাল সৌভাগ্য। কিন্তু এই সৌভাগ্য ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন ঈমানের ওপর অবিচল থাকা।

নফস: জান্নাতের পথে প্রধান বাধা

আমাদের জান্নাতে যাওয়ার পথে সবচেয়ে বড় শত্রু হলো আমাদের নিজের ‘নফস’ বা প্রবৃত্তি। নফস সবসময় আমাদের খারাপ কাজের দিকে প্ররোচিত করে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বারবার নফসের আনুগত্য করতে নিষেধ করেছেন।

কীভাবে নফসকে নিয়ন্ত্রণ করবেন?

১. সতর্কতা: যখনই নফস কোনো হারামের দিকে ডাকবে, তখন জান্নাতের সেই চিরস্থায়ী সুখের কথা স্মরণ করুন।

২. তওবা: মানুষ হিসেবে আমাদের ভুল হতে পারে। যদি কোনো গুনাহ হয়ে যায়, তবে নিরাশ না হয়ে সাথে সাথে আল্লাহর কাছে তওবা করুন।

৩. ভালো কাজের মাধ্যমে গুনাহ মোচন: একটি খারাপ কাজ হয়ে গেলে তার বদলে একটি ভালো কাজ করুন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

“আল্লাহকে ভয় করো যেখানেই থাকো, একটি খারাপ কাজের পরে একটি ভালো কাজ করো, তবে এটি তা মুছে দেবে…” (তিরমিযী: ১৯৮৭)

বদ অভ্যাস দূর করার উপায়

আপনার যদি কোনো খারাপ অভ্যাস থাকে, তবে তা দমনের সেরা উপায় হলো সেটিকে একটি ভালো অভ্যাস দিয়ে প্রতিস্থাপন করা।

  • অশ্লীল কিছু দেখার ইচ্ছা হলে কুরআন তিলাওয়াত শুরু করুন।
  • মিথ্যা বলার প্রবণতা থাকলে বেশি বেশি যিকির করুন।
  • অলসতা কাটাতে মানুষের সেবামূলক কাজ বা নফল ইবাদতে মশগুল হন।

আমরা একদম শেষ জামানায় আছি। সময় খুব সংক্ষিপ্ত। দুনিয়ার সাময়িক হারামে নিমজ্জিত হয়ে নিজের সত্যিকারের অনন্ত জীবনটা নষ্ট করবেন না। আল্লাহর দ্বীনের ওপর ধৈর্য ধরে আমৃত্যু টিকে থাকুন। সিরাতুল মুস্তাকিমের পথ থেকে বিচ্যুত হবেন না।

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:

“আপনার রবের এবাদত করতে থাকুন আপনার মৃত্যু আসা পর্যন্ত।” (সূরা হিজর, আয়াত: ৯৯)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নফসের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসের অধিবাসী হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

ফেসবুকে যারা মন্তব্য করেছেনঃ
(Visited 1 times, 1 visits today)