আমাদের প্রত্যেকের জীবনে একটি প্রশ্ন করা উচিত – আগামী এক বছর আমি কীভাবে আরও ভালো মুসলিম হতে পারি? রমজান থেকে রমজান, অথবা এই শীত থেকে পরের শীত – সময়ের এই ব্যবধানে আমার ভেতরে কী পরিবর্তন আসবে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনটি দিক নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন আলেমরা।
এই তিনটি ক্ষেত্র হলো ইবাদত, জ্ঞান এবং সেবা।
ইবাদতে উন্নতি
একজন মুসলিমের প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত তার ইবাদতকে উন্নত করা। নামাজ সময়মতো আদায় করা, বিশেষ করে ফজরের নামাজে যত্নবান হওয়া। যারা পুরুষ, তারা জামাতে অংশগ্রহণের চেষ্টা করবে।
কিছু বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ:
- সময়মতো ঘুমানো ও ভোরে জেগে ওঠা।
- ফজরের পর কুরআন তেলাওয়াত করা।
- প্রতিদিন অল্প হলেও কুরআন মুখস্থ করার চেষ্টা করা।
রাসূল ﷺ বলেছেন, কুরআন পাঠ করলে তার প্রতিটি অক্ষরে দশটি সওয়াব। অথচ আমরা প্রায়ই বলি “আমি দুনিয়া বদলাবো”, অথচ নিজের দিনটিই বদলাতে পারছি না। দিন বদলাতে না পারলে বছর বদলানো যাবে কিভাবে? তাই দিনকে সাজানোই হলো আসল পরিবর্তনের শুরু।
জ্ঞানে উন্নতি
ইবাদতের পরেই আসছে জ্ঞানের চর্চা। অনেকেই শুধু জ্ঞানে ব্যস্ত থাকে কিন্তু আমলে গাফেল থাকে। অথচ প্রকৃত জ্ঞান হলো সেই জ্ঞান, যা আমলের উন্নতি ঘটায়।
এ বছরের পরিকল্পনা হতে পারে:
- অন্তত একবার সীরাতুন নবী ﷺ পড়া। সম্ভব হলে প্রতি বছর ভিন্ন ভিন্ন বই থেকে পড়া।
- কুরআনের নির্দিষ্ট একটি সূরা মুখস্থ করা, এর তাফসির ও অর্থ বোঝা। যেমন, সূরা কাহফ অথবা সূরা রহমান।
- কিছু দু’আ মুখস্থ করা এবং দৈনন্দিন জীবনে অন্তর্ভুক্ত করা।
কুরআন মুখস্থ করার আসল উদ্দেশ্য হলো বারবার তা পড়া এবং গভীরভাবে চিন্তা করা। যত বেশি পাঠ করবেন, আল্লাহ তত বেশি তার রহস্য আপনার জন্য খুলে দেবেন।
সেবায় নিয়োজিত হওয়া
তৃতীয় লক্ষ্য হলো সেবা। অর্থাৎ অন্যদের উপকারে আসা। সেবার কাজ কেবল ইসলামিক সংগঠনের মাধ্যমে হতে হবে, তা নয়। যেকোনো ভালো কাজে অংশ নিতে পারেন। গরিবদের সহায়তা, বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো, বৃদ্ধাশ্রমে সেবা করা—সবই ইবাদতের অংশ।
রাসূল ﷺ বলেছেন:
“মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে মানুষের উপকারে আসে।” (আল-মুজাম আল-আওসাত, 6192)
এগুলো গোপনে করা উত্তম। কাউকে জানানোর প্রয়োজন নেই, কারণ আসল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
এই তিনটি ক্ষেত্র—ইবাদত, জ্ঞান ও সেবা—এগুলোকে যদি আমরা বছরের পরিকল্পনায় রাখি, তবে আমাদের জীবন বদলাতে শুরু করবে।
- ইবাদত আমাদের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করবে।
- জ্ঞান আমাদের চিন্তা ও আমলকে সঠিক পথে পরিচালিত করবে।
- সেবা আমাদের মানুষ হিসেবে আরও বিনয়ী ও উপকারী করে তুলবে।
আজ সিদ্ধান্ত নিন, আগামী এক বছর এই তিনটি লক্ষ্য নিয়েই এগোবেন। আল্লাহর সাহায্য নিয়ে ধাপে ধাপে আপনি একজন উত্তম মুসলিমে পরিণত হবেন, ইনশাআল্লাহ।
— উস্তাদ নোমান এবং শায়েখ ইয়াসির কাদির আলোচনা অবলম্বনে
